দর্শনার্থীদের অন্তর্দৃষ্টি
দর্শন আবু সিমবেল মন্দিরসমূহ
আবু সিমবেল মন্দিরসমূহ পরিদর্শন করা একটি বিস্ময়কর অভিজ্ঞতা, যা আপনাকে প্রাচীন মিশরের সময় এবং দ্বিতীয় রামসেসের রাজত্বকালে ফিরিয়ে নিয়ে যাবে। বিশাল মূর্তি এবং জটিল খোদাই সহ মন্দিরগুলোর বিশালতা সত্যিই অসাধারণ। আপনি যখন প্রধান মন্দির এবং ছোট মন্দিরটি অন্বেষণ করবেন, তখন প্রাচীন মিশরীয়দের স্থাপত্য ও শৈল্পিক কৃতিত্ব দেখে বিস্মিত হওয়ার সাথে সাথে ইতিহাসের মধ্য দিয়ে এক যাত্রার অভিজ্ঞতা লাভ করবেন।
প্রধান বৈশিষ্ট্য
- প্রধান মন্দিরের প্রবেশদ্বারে দ্বিতীয় রামসেসের চারটি বিশাল মূর্তি দেখে বিস্মিত হোন।
- উভয় মন্দিরের ভেতরের কক্ষগুলো অন্বেষণ করুন, যা জটিল খোদাই এবং হায়ারোগ্লিফিক্স দ্বারা সজ্জিত।
- বছরে দুইবার ঘটা সেই অলৌকিক ঘটনার সাক্ষী হোন যখন সূর্য প্রধান মন্দিরের ভেতরের গর্ভগৃহকে আলোকিত করে।
জানার বিষয়
- আবু সিমবেল আসওয়ান থেকে প্রায় ২৪০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত, যার জন্য বিমান যাত্রা বা দীর্ঘ ড্রাইভের প্রয়োজন হয়।
- মন্দিরগুলোতে বিশেষ করে পর্যটনের পিক সিজনে ভিড় হতে পারে, তাই ভোরে পরিদর্শনের কথা বিবেচনা করুন।
- মরুভূমির জলবায়ু গরম হতে পারে, তাই সানস্ক্রিন, টুপি এবং আরামদায়ক জুতো পরুন এবং প্রচুর পানি সাথে রাখুন।
আপনার দর্শনের জন্য টিপস
ভোরে পরিদর্শন করুন
ভিড় এবং গরম এড়াতে সকাল সকাল পরিদর্শন করুন।
পর্যাপ্ত পানি পান করুন
মরুভূমির গরম মোকাবেলা করতে সাথে পানি রাখুন।
পরিচিতি
আবু সিমবেল মন্দিরসমূহ হলো উচ্চ মিশরের আসওয়ান গভর্নরেটের সুদান সীমান্তের কাছাকাছি আবু সিমবেল নামক একটি গ্রামে অবস্থিত দুটি বিশাল শিলা-খোদাই করা মন্দির। এগুলো আসওয়ানের প্রায় ২৩০ কিমি দক্ষিণ-পশ্চিমে নাসের হ্রদের পশ্চিম তীরে অবস্থিত। এই যমজ মন্দির দুটি মূলত খ্রিস্টপূর্ব ১৩শ শতাব্দীতে, ১৯তম রাজবংশের ফারাও দ্বিতীয় রামসেসের রাজত্বকালে পাহাড়ের গা কেটে খোদাই করা হয়েছিল। এই কমপ্লেক্সটি ইউনেস্কো (UNESCO) ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটের অংশ যা “আবু সিমবেল থেকে ফিলা পর্যন্ত নুবিয়ান স্মৃতিস্তম্ভ” নামে পরিচিত।
প্রধান মন্দিরটি দ্বিতীয় রামসেস এবং দেবতা আমুন-রা, রা-হোরাখতি ও পতাহ-এর উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করা হয়েছিল, অন্যদিকে ছোট মন্দিরটি তাঁর প্রধান স্ত্রী রানী নেফারতারি এবং দেবী হাথরের উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করা হয়েছিল। এই মন্দিরগুলো দ্বিতীয় রামসেসের ক্ষমতা ও ভক্তির পাশাপাশি প্রাচীন মিশরের স্থাপত্য ও শৈল্পিক কৃতিত্বের প্রমাণ হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
১৯৬০-এর দশকে, আসওয়ান হাই ড্যাম নির্মাণের কারণে মন্দিরগুলো এক বড় হুমকির মুখে পড়েছিল, যার ফলে এগুলো নাসের হ্রদের নিচে তলিয়ে যেত। ইউনেস্কোর নেতৃত্বে একটি আন্তর্জাতিক অভিযানের মাধ্যমে মন্দির কমপ্লেক্সটি ভেঙে ফেলা হয় এবং এর মূল অবস্থান থেকে ৬৫ মিটার উঁচুতে এবং ২০০ মিটার পশ্চিমে উচ্চতর স্থানে স্থানান্তরিত করা হয়। প্রকৌশল ও সংরক্ষণের এই অসাধারণ কীর্তিটি নিশ্চিত করেছে যে আবু সিমবেল মন্দিরসমূহ আগামী প্রজন্মের দর্শনার্থীদের অনুপ্রাণিত ও বিস্মিত করতে থাকবে।
গ্যালারি
প্রতীকী উপাদান
The temple's exterior features intricate carvings, each rich with spiritual meaning:
দ্বিতীয় রামসেসের বিশাল মূর্তি
মহৎ মন্দিরের প্রবেশদ্বারে দ্বিতীয় রামসেসের চারটি বিশাল মূর্তি তাঁর ক্ষমতা, ঐশ্বরিক মর্যাদা এবং কর্তৃত্ব প্রকাশ করার উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছিল। প্রতিটি মূর্তি প্রায় ২০ মিটার উঁচু এবং ফারাওকে একটি সিংহাসনে উপবিষ্ট অবস্থায় চিত্রিত করে, যা মিশরের ওপর তাঁর শাসন ও আধিপত্যের প্রতীক। এই মূর্তিগুলো দ্বিতীয় রামসেসের মহত্ত্ব এবং দেবতাদের সাথে তাঁর সংযোগের একটি শক্তিশালী প্রকাশ হিসেবে কাজ করত।
নেফারতারির মূর্তি
ছোট মন্দিরে ফারাওয়ের মূর্তির পাশাপাশি দ্বিতীয় রামসেসের প্রধান স্ত্রী রানী নেফারতারির মূর্তি রয়েছে। এই মূর্তিগুলো নেফারতারির গুরুত্ব এবং প্রাচীন মিশরীয় সমাজে তাঁর ভূমিকাকে তুলে ধরে। রানী হিসেবে তিনি তাঁর সৌন্দর্য, বুদ্ধিমত্তা এবং তাঁর স্বামী ও দেবতাদের প্রতি ভক্তির জন্য পূজনীয় ছিলেন।
হায়ারোগ্লিফিক্স
মহৎ মন্দির এবং ছোট মন্দির উভয়ের দেয়ালই জটিল খোদাই এবং হায়ারোগ্লিফিক্স দ্বারা সুশোভিত। এই প্রাচীন লিপিগুলো দ্বিতীয় রামসেসের শাসনকাল, তাঁর সামরিক বিজয় এবং দেবতাদের প্রতি তাঁর ভক্তির গল্প বলে। হায়ারোগ্লিফিক্স প্রাচীন মিশরের বিশ্বাস, রীতিনীতি এবং ইতিহাস সম্পর্কে মূল্যবান অন্তর্দৃষ্টি প্রদান করে।
গর্ভগৃহ (Inner Sanctuary)
মহৎ মন্দিরের গর্ভগৃহে দ্বিতীয় রামসেস, আমুন-রা, রা-হোরাখতি এবং পতাহ-এর মূর্তি রয়েছে। এই পবিত্র স্থানটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান এবং আচার-অনুষ্ঠানের কেন্দ্রবিন্দু ছিল, যেখানে পুরোহিতরা দেবতাদের উদ্দেশ্যে প্রার্থনা এবং উৎসর্গ করতেন। সূর্যের সাথে মন্দিরগুলোর সারিবদ্ধতা বছরের দুবার গর্ভগৃহে সূর্যের আলো প্রবেশ করতে সাহায্য করত, যা মূর্তিগুলোকে আলোকিত করত এবং রাজার ঐশ্বরিক মর্যাদাকে আরও দৃঢ় করত।
কাদেশের যুদ্ধের রিলিফসমূহ
মহৎ মন্দিরে কাদেশের যুদ্ধে দ্বিতীয় রামসেসের বীরত্বপূর্ণ নেতৃত্বের চিত্রিত রিলিফ রয়েছে। এই খোদাইগুলো ফারাওয়ের সামরিক দক্ষতা এবং শত্রুদের হাত থেকে মিশরকে রক্ষা করার ক্ষমতা প্রদর্শন করে। কাদেশের যুদ্ধ দ্বিতীয় রামসেসের শাসনকালের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ছিল এবং এই রিলিফগুলো তাঁর শক্তি ও সাহসের অনুস্মারক হিসেবে কাজ করে।
সৌর সারিবদ্ধতা
বছরের নির্দিষ্ট সময়ে সূর্যের সাথে মন্দিরগুলোর সারিবদ্ধতা রাজার ঐশ্বরিক মর্যাদা এবং দেবতাদের সাথে তাঁর সংযোগকে আরও দৃঢ় করে। বছরে দুবার, প্রায় ২২ ফেব্রুয়ারি এবং ২২ অক্টোবর, সূর্যের আলো মহৎ মন্দিরের গর্ভগৃহে প্রবেশ করে দ্বিতীয় রামসেস, রা-হোরাখতি এবং আমুনের মূর্তিগুলোকে আলোকিত করে। এই ঘটনাটি ফারাওয়ের শাসনের ঐশ্বরিক অধিকার এবং দেবতা ও মানুষের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে তাঁর ভূমিকাকে প্রতীকায়িত করে।
শিলা-খোদাই স্থাপত্য
আবু সিমবেল মন্দিরসমূহ শিলা-খোদাই স্থাপত্যের অসাধারণ উদাহরণ, যা সরাসরি বেলেপাথরের পাহাড় কেটে তৈরি করা হয়েছে। এই কৌশলের জন্য দক্ষ প্রকৌশলী এবং কারিগরদের প্রয়োজন ছিল যারা জটিল বিবরণ সহ বিশাল কাঠামো তৈরি করতে সক্ষম ছিলেন। আবু সিমবেলের শিলা-খোদাই স্থাপত্য প্রাচীন মিশরীয়দের চতুরতা এবং শৈল্পিক ক্ষমতার পরিচয় দেয়।
নাসের হ্রদের পটভূমি
আবু সিমবেল মন্দিরসমূহ নাসের হ্রদের পশ্চিম তীরে অবস্থিত, যা এই প্রাচীন স্মৃতিস্তম্ভগুলোর জন্য একটি চমৎকার পটভূমি প্রদান করে। আসওয়ান হাই ড্যাম নির্মাণের ফলে এই হ্রদটি তৈরি হয়েছিল এবং মন্দিরগুলো স্থানান্তরের ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। নাসের হ্রদের তীরে আবু সিমবেলের অবস্থান এই স্থানের সৌন্দর্য এবং মহিমাকে আরও বাড়িয়ে তোলে।
আকর্ষণীয় তথ্য
আবু সিমবেল মন্দিরসমূহ খ্রিস্টপূর্ব ১৩শ শতাব্দীতে দ্বিতীয় রামসেস দ্বারা নির্মিত হয়েছিল।
নাসের হ্রদে তলিয়ে যাওয়া থেকে বাঁচাতে ১৯৬০-এর দশকে পুরো কমপ্লেক্সটি সম্পূর্ণরূপে স্থানান্তর করা হয়েছিল।
স্থানান্তর প্রকল্পটি ছিল ইউনেস্কোর নেতৃত্বে একটি আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টা।
মহৎ মন্দিরের প্রবেশদ্বারে দ্বিতীয় রামসেসের চারটি বিশাল মূর্তি রয়েছে, যার প্রতিটি প্রায় ২০ মিটার উঁচু।
ছোট মন্দিরটি রানী নেফারতারি এবং দেবী হাথোরের উদ্দেশ্যে উৎসর্গীকৃত।
মন্দিরগুলো এমনভাবে সারিবদ্ধ করা হয়েছে যাতে বছরে দুবার সূর্যের আলো মহৎ মন্দিরের গর্ভগৃহকে আলোকিত করে।
আবু সিমবেল ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের অংশ, যা ‘আবু সিমবেল থেকে ফিলায় পর্যন্ত নুবিয়ান স্মৃতিস্তম্ভ’ নামে পরিচিত।
১৮১৩ সালে জোহান লুডভিগ বার্কহার্ড মন্দিরগুলো পুনঃআবিষ্কার করেন।
আবু সিমবেল মন্দিরসমূহ দ্বিতীয় রামসেসের ক্ষমতা ও ভক্তির প্রতীক হিসেবে কাজ করত।
সাধারণ জিজ্ঞাসা
আবু সিমবেল মন্দিরসমূহ কে নির্মাণ করেছিলেন?
আবু সিমবেল মন্দিরসমূহ খ্রিস্টপূর্ব ১৩শ শতাব্দীতে দ্বিতীয় রামসেস তাঁর ক্ষমতা ও ভক্তির নিদর্শন হিসেবে এবং তাঁর স্ত্রী রানী নেফারতারি ও বিভিন্ন মিশরীয় দেবতাদের সম্মান জানাতে নির্মাণ করেছিলেন।
আবু সিমবেল মন্দিরসমূহ কেন স্থানান্তর করা হয়েছিল?
আসওয়ান হাই ড্যাম নির্মাণের কারণে নাসের হ্রদের পানিতে তলিয়ে যাওয়া থেকে রক্ষা করতে ১৯৬০-এর দশকে মন্দিরগুলো স্থানান্তর করা হয়। এটি ছিল ইউনেস্কোর নেতৃত্বে একটি আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টা।
মহৎ মন্দিরের বিশাল মূর্তিগুলোর তাৎপর্য কী?
মহৎ মন্দিরের প্রবেশদ্বারে দ্বিতীয় রামসেসের চারটি বিশাল মূর্তি তাঁর ক্ষমতা, ঐশ্বরিক মর্যাদা এবং কর্তৃত্ব প্রকাশ করার উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছিল। এগুলো তাঁর शासनকাল এবং দেবতাদের সাথে তাঁর সংযোগের প্রতীক হিসেবে কাজ করত।
ছোট মন্দিরটি কার উদ্দেশ্যে উৎসর্গীকৃত?
ছোট মন্দিরটি দ্বিতীয় রামসেসের প্রধান স্ত্রী রানী নেফারতারি এবং প্রেম, সৌন্দর্য ও মাতৃত্বের দেবী হাথোরের উদ্দেশ্যে উৎসর্গীকৃত। এই মন্দিরটি রানীর গুরুত্ব এবং প্রাচীন মিশরীয় সমাজে তাঁর ভূমিকাকে তুলে ধরে।
সূর্য কখন মহৎ মন্দিরের গর্ভগৃহকে আলোকিত করে?
মন্দিরগুলো এমনভাবে সারিবদ্ধ করা হয়েছে যাতে বছরে দুবার, প্রায় ২২ ফেব্রুয়ারি এবং ২২ অক্টোবর, সূর্যের আলো মহৎ মন্দিরের গর্ভগৃহকে আলোকিত করে। এই ঘটনাটি রাজার ঐশ্বরিক মর্যাদা এবং দেবতাদের সাথে তাঁর সংযোগকে আরও দৃঢ় করে।
বৈশিষ্ট্যযুক্ত গল্প
আবু সিমবেলের পুনঃআবিষ্কার
March 22, 1813
বহু শতাব্দী ধরে, আবু সিমবেল মন্দিরসমূহ সাহারা মরুভূমির বালির নিচে লুকিয়ে ছিল, বাইরের বিশ্ব এদের অস্তিত্বের কথা প্রায় ভুলেই গিয়েছিল। ১৮১৩ সালের ২২ মার্চ সুইজারল্যান্ডের গবেষক জোহান লুডভিগ বার্কহার্ড হঠাৎ করেই এই স্থানটি খুঁজে পান এবং ছোট মন্দির ও প্রধান মন্দিরের উপরের অলঙ্কৃত অংশটি পুনঃআবিষ্কার করেন। এই ঐতিহাসিক মুহূর্তটি আবু সিমবেলের ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে, কারণ বিশ্ব আবারও এই মহিমান্বিত স্মৃতিস্তম্ভগুলো সম্পর্কে জানতে পারে।
বার্কহার্ডের আবিষ্কার অভিযাত্রী এবং প্রত্নতাত্ত্বিকদের আগ্রহকে জাগিয়ে তোলে, যারা আবু সিমবেলের রহস্য উন্মোচন করতে উদগ্রীব ছিলেন। তবে, মহৎ মন্দিরটি সম্পূর্ণরূপে খনন ও অন্বেষণ করতে আরও কয়েক বছর সময় লেগেছিল। কাজটি অত্যন্ত কঠিন ছিল, কারণ প্রবেশদ্বারটি টন টন বালির নিচে চাপা পড়ে ছিল, যার ফলে ভেতরের কক্ষগুলোতে প্রবেশ করা কঠিন ছিল।
অবশেষে, ১৮১৭ সালের ১ আগস্ট, জিওভান্নি বাতিস্তা বেলজোনি এবং তাঁর দল মহৎ মন্দিরে প্রবেশ করতে সক্ষম হন এবং এর বিস্ময়কর অভ্যন্তরভাগ বিশ্বের সামনে উন্মোচন করেন। আবু সিমবেলের পুনঃআবিষ্কার ছিল অন্বেষণের এক বিশাল বিজয় এবং প্রাচীন মিশরের চিরস্থায়ী ঐতিহ্যের একটি প্রমাণ।
আন্তর্জাতিক উদ্ধার অভিযান
1964-1968
১৯৬০-এর দশকে, আসওয়ান হাই ড্যাম নির্মাণের কারণে আবু সিমবেল মন্দিরসমূহ এক চরম হুমকির মুখে পড়েছিল। নাসের হ্রদের ক্রমবর্ধমান পানি মন্দিরগুলোকে তলিয়ে দেওয়ার এবং ইতিহাস থেকে চিরতরে মুছে ফেলার হুমকি দিচ্ছিল। এই বিপর্যয় রোধ করতে, ইউনেস্কোর নেতৃত্বে একটি আন্তর্জাতিক অভিযান শুরু করা হয় যাতে মন্দির কমপ্লেক্সটি খণ্ড খণ্ড করে খুলে ফেলা হয় এবং উঁচুতে স্থানান্তর করা হয়।
স্থানান্তর প্রকল্পটি ছিল একটি বিশাল কাজ, যার জন্য বিশ্বজুড়ে প্রকৌশলী, প্রত্নতাত্ত্বিক এবং দক্ষ শ্রমিকদের দক্ষতার প্রয়োজন ছিল। মন্দিরগুলোকে সাবধানে বিশাল ব্লকে কাটা হয়েছিল, যার প্রতিটির ওজন ছিল কয়েক টন, এবং তারপরে তাদের মূল অবস্থান থেকে ৬৫ মিটার উঁচুতে এবং ২০০ মিটার পশ্চিমে একটি নতুন স্থানে পুনরায় একত্রিত করা হয়েছিল।
আবু সিমবেলের সফল স্থানান্তর ছিল আন্তর্জাতিক সহযোগিতার এক অনন্য বিজয় এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে বিশ্বের অঙ্গীকারের প্রমাণ। ১৯৬৮ সালের ২২ সেপ্টেম্বর স্থানান্তরিত আবু সিমবেল মন্দিরসমূহ উদ্বোধন করা হয়, যা নিশ্চিত করে যে এই মহিমান্বিত স্মৃতিস্তম্ভগুলো আগামী প্রজন্মের দর্শনার্থীদের অনুপ্রাণিত ও বিস্মিত করতে থাকবে।
আবু সিমবেলে সূর্য উৎসব
February 22 and October 22
আবু সিমবেল মন্দিরসমূহের অন্যতম উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো সূর্যের সাথে এদের সারিবদ্ধতা। বছরে দুবার, প্রায় ২২ ফেব্রুয়ারি এবং ২২ অক্টোবর, সূর্যের আলো মহৎ মন্দিরের গর্ভগৃহে প্রবেশ করে দ্বিতীয় রামসেস, রা-হোরাখতি এবং আমুনের মূর্তিগুলোকে আলোকিত করে। এই ঘটনাটি, যা সূর্য উৎসব নামে পরিচিত, প্রাচীন মিশরীয়দের জ্যোতির্বিজ্ঞান সংক্রান্ত জ্ঞান এবং সূর্য দেবতার প্রতি তাদের শ্রদ্ধার প্রমাণ।
সূর্য উৎসবের সময়, হাজার হাজার দর্শনার্থী এই চমৎকার ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করতে আবু সিমবেলে ভিড় করেন। সূর্য ওঠার সাথে সাথে এর রশ্মিগুলো ধীরে ধীরে গর্ভগৃহে প্রবেশ করে এবং একে একে মূর্তিগুলোকে আলোকিত করে। এর প্রভাব সত্যিই জাদুকরী, কারণ সোনালী আলোয় দেবতাদের মুখগুলো জীবন্ত বলে মনে হয়।
আবু সিমবেলে সূর্য উৎসব হলো প্রাচীন মিশরীয় সংস্কৃতির একটি উদযাপন এবং সূর্যের চিরন্তন শক্তির একটি অনুস্মারক। এটি এমন একটি সময় যখন অতীত এবং বর্তমান এক সুতোয় বাঁধা পড়ে, কারণ বিশ্বজুড়ে দর্শনার্থীরা এই অসাধারণ ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করতে সমবেত হন।
সময়রেখা
নির্মাণ কাজ শুরু
দ্বিতীয় রামসেসের রাজত্বকালে আবু সিমবেল মন্দিরসমূহের নির্মাণ কাজ শুরু হয়।
মাইলস্টোননির্মাণ কাজ সমাপ্ত
মন্দির কমপ্লেক্সের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়।
মাইলস্টোনমন্দিরসমূহের ব্যবহার বন্ধ হওয়া
মন্দিরগুলোর ব্যবহার বন্ধ হয়ে যায় এবং মহৎ মন্দিরটি বেশিরভাগই বালির স্তূপে ঢেকে যায়।
component.timeline.historicজোহান লুডভিগ বার্কহার্ড কর্তৃক পুনঃআবিষ্কার
সুইজারল্যান্ডের গবেষক জোহান লুডভিগ বার্কহার্ড মন্দিরগুলো পুনঃআবিষ্কার করেন, যিনি ছোট মন্দিরটি এবং প্রধান মন্দিরের উপরের অলঙ্কৃত অংশটি খুঁজে পেয়েছিলেন।
component.timeline.historicমহৎ মন্দিরে প্রবেশ
জিওভান্নি বাতিস্তা বেলজোনি এবং তাঁর দল মহৎ মন্দিরে প্রবেশ করতে সক্ষম হন।
component.timeline.historicজলমগ্ন হওয়ার হুমকি
আসওয়ান হাই ড্যাম নির্মাণের কারণে নাসের হ্রদের পানিতে মন্দিরগুলো তলিয়ে যাওয়ার হুমকিতে পড়েছিল।
সংস্কারস্থানান্তর শুরু
ইউনেস্কোর নেতৃত্বে একটি আন্তর্জাতিক অভিযানের মাধ্যমে মন্দির কমপ্লেক্সটি খণ্ড খণ্ড করে খুলে ফেলা হয় এবং উঁচুতে স্থানান্তর করা হয়।
সংস্কারস্থানান্তর সম্পন্ন
স্থানান্তরিত আবু সিমবেল মন্দিরসমূহ উদ্বোধন করা হয়।
সংস্কারস্থানান্তরিত মন্দিরসমূহের উদ্বোধন
স্থানান্তরিত আবু সিমবেল মন্দিরসমূহ উদ্বোধন করা হয়।
উৎসর্গইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান
আবু সিমবেল মন্দিরসমূহকে ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়।
মাইলস্টোনমহৎ মন্দির উৎসর্গীকরণ
মহৎ মন্দিরটি দ্বিতীয় রামসেস এবং দেবতা আমুন-রা, রা-হোরাখতি ও পতাহ-এর উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করা হয়েছিল।
উৎসর্গছোট মন্দির উৎসর্গীকরণ
ছোট মন্দিরটি তাঁর প্রধান স্ত্রী রানী নেফারতারি এবং দেবী হাথোরের উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করা হয়েছিল।
উৎসর্গসূর্য উৎসব
সূর্যের আলো মহৎ মন্দিরের গর্ভগৃহে প্রবেশ করে দ্বিতীয় রামসেস, রা-হোরাখতি এবং আমুনের মূর্তিগুলোকে আলোকিত করে।
ঘটনাসূর্য উৎসব
সূর্যের আলো মহৎ মন্দিরের গর্ভগৃহে প্রবেশ করে দ্বিতীয় রামসেস, রা-হোরাখতি এবং আমুনের মূর্তিগুলোকে আলোকিত করে।
ঘটনাঅনুরূপ মন্দিরসমূহ
উৎস ও গবেষণা
Temples.org-এর প্রতিটি তথ্য যাচাইকৃত দ্বারা সমর্থিত <strong>উৎস ও গবেষণা</strong>। তথ্যের প্রতিটি অংশ উৎস স্তর এবং আত্মবিশ্বাসের স্তর দ্বারা রেট করা হয়।
সমস্ত উৎস দেখুন (9)
| ক্ষেত্র | উৎস | স্তর | পুনরুদ্ধার করা হয়েছে |
|---|---|---|---|
| About & Historical Background | Deluxe Tours Egypt (নতুন ট্যাবে খোলে) | D | 2024-02-29 |
| About & Historical Background | Sound and Light (নতুন ট্যাবে খোলে) | D | 2024-02-29 |
| About & Historical Background | Tripidays Egypt Tours (নতুন ট্যাবে খোলে) | D | 2024-02-29 |
| About & Historical Background | Egypt Day Tours (নতুন ট্যাবে খোলে) | D | 2024-02-29 |
| About & Historical Background | AS Ramessum (নতুন ট্যাবে খোলে) | D | 2024-02-29 |
| About & Historical Background | Holiday Tours (নতুন ট্যাবে খোলে) | D | 2024-02-29 |
| About & Historical Background | Explore Egypt Tours (নতুন ট্যাবে খোলে) | D | 2024-02-29 |
| About & Historical Background | Egyptian Museum (নতুন ট্যাবে খোলে) | D | 2024-02-29 |
| About & Historical Background | Egypt Tours Group (নতুন ট্যাবে খোলে) | D | 2024-02-29 |