দর্শনার্থীদের অন্তর্দৃষ্টি
দর্শন শ্রী কাশী বিশ্বনাথ মন্দির
শ্রী কাশী বিশ্বনাথ মন্দির দর্শন একটি গভীর আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতা, যা দর্শনার্থীদের হিন্দুধর্মের অন্যতম শ্রদ্ধেয় স্থানের প্রাণবন্ত পরিবেশে নিমজ্জিত করে। এখানে ভক্ত, পুরোহিত এবং প্রার্থনা ও মন্ত্রোচ্চারণের শব্দে মুখরিত একটি ব্যস্ত পরিবেশের মুখোমুখি হওয়ার আশা রাখুন। মন্দির প্রাঙ্গণটি শহরের বিশৃঙ্খলা থেকে একটি শান্তিময় মুক্তি প্রদান করে, যা আত্মদর্শন এবং ঈশ্বরের সাথে সংযোগ স্থাপনের সুযোগ করে দেয়। নিরাপত্তা পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত থাকুন এবং সম্মানের প্রতীক হিসেবে শালীন পোশাক পরিধান করুন।
প্রধান বৈশিষ্ট্য
- পুরোহিতদের দ্বারা সম্পাদিত পবিত্র আচার-অনুষ্ঠান এবং পূজা প্রত্যক্ষ করুন।
- জ্যোতির্লিঙ্গের আধ্যাত্মিক শক্তির অভিজ্ঞতা লাভ করুন।
- মন্দিরকে গঙ্গার সাথে সংযোগকারী কাশী বিশ্বনাথ করিডোরের মধ্য দিয়ে হেঁটে যান।
জানার বিষয়
- হাত ও পা ঢেকে শালীন পোশাক পরিধান করুন।
- নিরাপত্তা পরীক্ষা এবং সম্ভাব্য লাইনের জন্য প্রস্তুত থাকুন।
- নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় ছবি তোলার ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকতে পারে।
আপনার দর্শনের জন্য টিপস
ভোরে দর্শন করুন
দীর্ঘ লাইন এড়াতে এবং আরও শান্তিপূর্ণ পরিবেশের অভিজ্ঞতা পেতে ভোরে দর্শন করুন।
আগে থেকে আরতি বুক করুন
বিশেষ করে শ্রাবণ এবং মহাশিবরাত্রির মতো উৎসবের সময় আগে থেকেই আরতির স্লট বুক করে রাখুন।
করিডোরটি ঘুরে দেখুন
মন্দিরকে ঘাটগুলোর সাথে সংযোগকারী কাশী বিশ্বনাথ করিডোরের মধ্য দিয়ে হেঁটে মনোরম দৃশ্য উপভোগ করুন।
পরিচিতি
উত্তরপ্রদেশের বারাণসীতে অবস্থিত শ্রী কাশী বিশ্বনাথ মন্দির ভগবান শিবের উদ্দেশ্যে উৎসর্গীকৃত অন্যতম পবিত্র হিন্দু মন্দির। এটি পবিত্র গঙ্গা নদীর পশ্চিম তীরে অবস্থিত এবং শিবের সবচেয়ে পবিত্র বাসস্থান বারোটি জ্যোতির্লিঙ্গের অন্যতম একটি। এই মন্দিরের ধর্মীয় গুরুত্ব অপরিসীম এবং এটি বিশ্বজুড়ে লক্ষ লক্ষ তীর্থযাত্রী ও ভক্তদের আকর্ষণ করে।
বারাণসী, যা কাশী নামেও পরিচিত, বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন জীবন্ত শহর হিসেবে বিবেচিত এবং এটি ভগবান শিব ও পার্বতীর বাসস্থান বলে বিশ্বাস করা হয়। কাশী বিশ্বনাথ মন্দিরের একটি সমৃদ্ধ ইতিহাস রয়েছে, যার মূল কাঠামোটি বহু শতাব্দী আগে নির্মিত হয়েছিল বলে বিশ্বাস করা হয়। তবে, ইতিহাসের গতিপথে মন্দিরটি বারবার ধ্বংস ও পুনর্নির্মাণের সম্মুখীন হয়েছে। বর্তমান কাঠামোটি ১৭৮০ সালে ইন্দোরের মহারানী অহল্যাবাই হোলকার দ্বারা নির্মিত হয়েছিল।
মন্দির প্রাঙ্গণটি একটি প্রাণবন্ত এবং জনাকীর্ণ স্থান, যেখানে ভক্তরা প্রার্থনা, আচার-অনুষ্ঠান এবং পূজায় মগ্ন থাকেন। মূল গর্ভগৃহে শিবলিঙ্গ রয়েছে, যা ভগবান শিবের একটি কালো পাথরের রূপ এবং এটিই পূজার মূল কেন্দ্রবিন্দু। মন্দিরটি কেবল ধর্মীয় গুরুত্বের স্থানই নয়, বরং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং স্থাপত্যের মহিমার প্রতীকও বটে। সম্প্রতি সমাপ্ত কাশী বিশ্বনাথ করিডোর মন্দিরের প্রবেশযোগ্যতা এবং নান্দনিকতাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে, যা গঙ্গা নদীর সাথে একটি নির্বিঘ্ন সংযোগ প্রদান করে।
গ্যালারি
প্রতীকী উপাদান
The temple's exterior features intricate carvings, each rich with spiritual meaning:
জ্যোতির্লিঙ্গ
কাশী বিশ্বনাথ মন্দিরের জ্যোতির্লিঙ্গটি ভগবান শিবের পরম শক্তির প্রতিনিধিত্ব করে। এটি বারাণসীতে আবির্ভূত হওয়া আলোর এক অনন্ত স্তম্ভের প্রতীক, যা মহাবিশ্বে বিরাজমান ঐশ্বরিক উপস্থিতি ও শক্তিকে নির্দেশ করে। ভক্তরা বিশ্বাস করেন যে জ্যোতির্লিঙ্গের পূজা করলে তারা শিবের সান্নিধ্য লাভ করেন এবং আধ্যাত্মিক মুক্তি অর্জনে সহায়তা পান।
ত্রিশূল
ত্রিশূল হল ভগবান শিবের সাথে যুক্ত একটি অন্যতম প্রধান প্রতীক এবং এটি প্রায়শই মন্দিরের চূড়ায় প্রদর্শিত হয়। এটি অস্তিত্বের তিনটি মৌলিক দিককে প্রতিনিধিত্ব করে: সৃষ্টি, স্থিতি এবং লয়। ত্রিশূল এই শক্তিগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করার এবং মহাজাগতিক ভারসাম্য বজায় রাখার শিবের ক্ষমতার প্রতীক, যা ভক্তদের জীবনের চক্রাকার প্রকৃতি এবং আধ্যাত্মিক সচেতনতার গুরুত্ব স্মরণ করিয়ে দেয়।
গঙ্গা নদী
কাশী বিশ্বনাথ মন্দিরের পাশ দিয়ে প্রবাহিত গঙ্গা নদীকে হিন্দুধর্মের সবচেয়ে পবিত্র নদী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বিশ্বাস করা হয় যে এই নদীর পাপ মোচন করার এবং মোক্ষ প্রদানের ক্ষমতা রয়েছে। নদীটি আধ্যাত্মিক শুদ্ধিকরণ, নবায়ন এবং জীবনের চিরন্তন প্রবাহের প্রতীক। ভক্তরা প্রায়শই মন্দিরে প্রবেশের আগে নিজেদের শুদ্ধ করতে এবং আশীর্বাদ প্রার্থনা করতে গঙ্গায় স্নান করেন।
স্বর্ণ গম্বুজ
কাশী বিশ্বনাথ মন্দিরের স্বর্ণ গম্বুজটি একটি চমৎকার স্থাপত্য বৈশিষ্ট্য যা মন্দিরের আধ্যাত্মিক তাৎপর্য এবং মহিমাকে প্রতীকায়িত করে। ১৯ শতকে মহারাজা রণজিৎ সিং এই সোনার পাত দান করেছিলেন, যা মন্দিরের জাঁকজমক আরও বাড়িয়ে তোলে। গম্বুজটি ঐশ্বরিক জগৎ এবং ভগবান শিবের দীপ্তিময় শক্তির প্রতিনিধিত্ব করে, যা ভক্তদের এই পবিত্র স্থানের আরও কাছাকাছি নিয়ে আসে।
নন্দী ষাঁড়
পবিত্র ষাঁড় নন্দী হল ভগবান শিবের বাহন এবং সাধারণত তাঁর উদ্দেশ্যে উৎসর্গীকৃত মন্দিরগুলোতে এটি দেখা যায়। নন্দী শক্তি, ভক্তি এবং অবিচল বিশ্বাসের প্রতীক। বিশ্বাস করা হয় যে নন্দী ভক্তদের প্রার্থনা শোনেন এবং তা ভগবান শিবের কাছে পৌঁছে দেন। ভক্তরা প্রায়শই ঐশ্বরিক কৃপা এবং আশীর্বাদ পাওয়ার আশায় নন্দীর কানে তাদের মনের ইচ্ছা ফিসফিস করে বলেন।
শিবলিঙ্গ
কালো পাথরে নির্মিত ভগবান শিবের প্রতীক শিবলিঙ্গটি কাশী বিশ্বনাথ মন্দিরের প্রধান উপাস্য বিগ্রহ। এটি শিবের নিরাকার ও শাশ্বত প্রকৃতির প্রতীক, যা মহাবিশ্বের মহাজাগতিক শক্তি এবং সৃজনশীল ক্ষমতার প্রতিনিধিত্ব করে। শিবলিঙ্গটি পূজার মূল কেন্দ্রবিন্দু এবং ভক্তরা আশীর্বাদ ও আধ্যাত্মিক তৃপ্তি লাভের জন্য প্রার্থনা, ফুল এবং পবিত্র সামগ্রী অর্পণ করেন।
কাশী বিশ্বনাথ করিডোর
২০২১ সালে সম্পন্ন হওয়া কাশী বিশ্বনাথ করিডোরটি মন্দির প্রাঙ্গণে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপত্য ও আধ্যাত্মিক সংযোজন। এটি মন্দির এবং গঙ্গা নদীর মধ্যে একটি সরাসরি ও নিরবচ্ছিন্ন সংযোগ প্রদান করে, যাতায়াত সহজ করে এবং ভক্তদের জন্য আরও গভীর আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতা তৈরি করে। করিডোরটি পবিত্র স্থান এবং ঐশ্বরিক নদীর মিলনকে প্রতীকায়িত করে, যা বারাণসীর আধ্যাত্মিক সত্তার সাথে আরও গভীর সংযোগ গড়ে তোলে।
আকর্ষণীয় তথ্য
কাশী বিশ্বনাথ মন্দির শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে বেশ কয়েকবার ধ্বংস এবং পুনর্নির্মিত হয়েছে।
বিশ্বাস করা হয় যে কাশী বিশ্বনাথ মন্দির দর্শন এবং পবিত্র গঙ্গা নদীতে স্নান করলে মানুষ জন্ম ও মৃত্যুর চক্র থেকে মুক্তি (মোক্ষ) পেতে পারে।
মন্দিরের চূড়াটি সোনার পাত দিয়ে মোড়ানো থাকার কারণে এটি সাধারণত ‘স্বর্ণ মন্দির’ নামে পরিচিত।
২০ইউ১ সালে সম্পন্ন হওয়া কাশী বিশ্বনাথ করিডোর প্রকল্প প্রবেশদ্বারগুলোর উন্নতি সাধন করে, উন্মুক্ত স্থান তৈরি করে এবং ভক্তদের জন্য সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করে মন্দির প্রাঙ্গণকে সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছে।
মন্দিরটি ভারতের অন্যতম সর্বাধিক দর্শনার্থী সমাগম হওয়া হিন্দু মন্দির, যেখানে ২০২৩ সালে প্রতিদিন গড়ে ৪৫,০০০ তীর্থযাত্রী এসেছিলেন।
বিশ্বাস করা হয় যে, ভগবান শিবের দুঃখের সময় করা তাণ্ডব নৃত্যের সময় যেখানে সতী দেবীর কান পড়েছিল, সেই স্থানেই কাশী বিশ্বনাথ মন্দিরটি নির্মিত হয়েছিল।
মন্দিরে “জ্ঞানবাপী” (জ্ঞানের কূপ) নামে একটি কূপ রয়েছে, কারণ আওরঙ্গজেব যখন মন্দিরটি ধ্বংস করার পরিকল্পনা করছিলেন, তখন ভগবান শিবের মূল বিগ্রহটি সেই কূপের মধ্যে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল।
আদি শংকরাচার্য, স্বামী বিবেকানন্দ এবং গোস্বামী তুলসীদাসের মতো কিংবদন্তি আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্বরা এই মন্দির দর্শন করেছেন।
কাশী বিশ্বনাথ লিঙ্গ মহাবিশ্বের ক্ষণস্থায়ী প্রকৃতির মাঝে অপরিবর্তনীয়, শাশ্বত সত্যের প্রতীক।
কাশী বিশ্বনাথ মন্দিরের কাছে গঙ্গার তীরে অবস্থিত মণিকর্ণিকা ঘাটকে একটি শক্তিপীঠ হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যা শাক্ত সম্প্রদায়ের জন্য একটি অত্যন্ত পূজনীয় উপাসনালয়।
সাধারণ জিজ্ঞাসা
কাশী বিশ্বনাথ মন্দিরের তাৎপর্য কী?
কাশী বিশ্বনাথ মন্দির ভগবান শিবের উদ্দেশ্যে উৎসর্গীকৃত অন্যতম পবিত্র হিন্দু মন্দির এবং এটি দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গের অন্যতম। এটি অত্যন্ত ধর্মীয় গুরুত্ব বহন করে এবং বিশ্বাস করা হয় যে এটি ভগবান শিব ও পার্বতীর বাসস্থান। এই মন্দির দর্শন এবং গঙ্গায় স্নান করলে জন্ম ও মৃত্যুর চক্র থেকে মুক্তি লাভ করা যায় বলে বিশ্বাস করা হয়।
মন্দিরের বর্তমান কাঠামোটি কে নির্মাণ করেছিলেন?
কাশী বিশ্বনাথ মন্দিরের বর্তমান কাঠামোটি ১৭৮০ সালে ইন্দোরের মহারানি অহল্যাবাই হোলকার নির্মাণ করেছিলেন। তিনি একজন মারাঠা শাসক ছিলেন যিনি তাঁর ভক্তি এবং ভারতের বিভিন্ন মন্দির নির্মাণ ও সংস্কারে অবদানের জন্য পরিচিত।
মন্দিরের দৈনিক সময়সূচী কী?
কাশী বিশ্বনাথ মন্দির প্রতিদিন ভোর ৩:০০ টা থেকে রাত ১১:০০ টা পর্যন্ত খোলা থাকে। উৎসব এবং বিশেষ অনুষ্ঠানে সময়সূচী কিছুটা পরিবর্তিত হতে পারে। সবচেয়ে সঠিক এবং আপ-টু-ডেট তথ্যের জন্য অফিসিয়াল ওয়েবসাইট চেক করা বা মন্দির কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
কাশী বিশ্বনাথ করিডোর কী?
কাশী বিশ্বনাথ করিডোর হল একটি পুনরুন্নয়ন প্রকল্প যা একটি প্রশস্ত পথের মাধ্যমে কাশী বিশ্বনাথ মন্দিরকে গঙ্গা নদীর সাথে সংযুক্ত করে। এই করিডোরটি মন্দির প্রাঙ্গণকে উন্নত করেছে, যাতায়াত সহজ করেছে এবং ভক্তদের জন্য আরও ভালো সুযোগ-সুবিধা প্রদান করেছে। ২০২১ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এটি উদ্বোধন করেন।
মন্দির দর্শনের জন্য পোশাকের নিয়ম (ড্রেস কোড) কী?
কাশী বিশ্বনাথ মন্দিরে আগত দর্শনার্থীদের শ্রদ্ধার প্রতীক হিসেবে শালীন পোশাক পরিধান করার আশা করা হয়। হাত ও পা ঢেকে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়। ঐতিহ্যবাহী ভারতীয় পোশাককে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়, তবে নির্দেশিকা মেনে চলে এমন যেকোনো শালীন পোশাক গ্রহণযোগ্য।
বৈশিষ্ট্যযুক্ত গল্প
মহারাজা রণজিৎ সিং কর্তৃক স্বর্ণ দান
1835
১৮৩৫ সালে পাঞ্জাবের শিখ শাসক মহারাজা রণজিৎ সিং মন্দিরের গম্বুজগুলো সোনার পাত দিয়ে মুড়ে দেওয়ার জন্য সোনা দান করে কাশী বিশ্বনাথ মন্দিরে এক গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। তাঁর এই উদারতা ও ভক্তি আঞ্চলিক এবং ধর্মীয় সীমানা ছাড়িয়ে হিন্দুদের কাছে এই মন্দিরের পবিত্রতার গুরুত্বকে তুলে ধরেছিল। এই স্বর্ণমণ্ডিতকরণ কেবল মন্দিরের বাহ্যিক সৌন্দর্যই বৃদ্ধি করেনি, বরং Hindu ঐতিহ্যের প্রতি মহারাজার শ্রদ্ধা এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে সহায়তা করার প্রতি তাঁর প্রতিশ্রুতিকেও প্রতীকায়িত করেছিল।
মহারাজা রণজিৎ সিংয়ের এই স্বর্ণ দান মন্দিরের ইতিহাসের একটি অত্যন্ত মূল্যবান অংশ হয়ে রয়েছে, যা আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতি এবং ঈশ্বরের প্রতি যৌথ শ্রদ্ধার এক অনন্য মুহূর্তকে তুলে ধরে। ঝলমলে সোনার গম্বুজগুলো আজও তীর্থযাত্রীদের মনে বিস্ময় ও ভক্তির উদ্রেক করে চলেছে, যা মহারাজার চিরস্থায়ী কীর্তি এবং মন্দিরের চিরন্তন তাৎপর্যের প্রমাণ হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
উৎস: https://en.wikipedia.org/wiki/Kashi_Vishwanath_Temple
মহারানি অহল্যাবাই হোলকার কর্তৃক নির্মাণ
1777-1780
১৮ শতকের শেষের দিকে ইন্দোরের মারাঠা রানি মহারানি অহল্যাবাই হোলকার কাশী বিশ্বনাথ মন্দিরের পুনর্নির্মাণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেব কর্তৃক মন্দিরটি ধ্বংস হওয়ার পর, ধর্মপ্রাণ এবং ধর্মীয় কাজের প্রতি উৎসর্গীকৃত ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত অহল্যাবাই হোলকার এই পবিত্র উপাসনালয়টি পুনর্নির্মাণের মহৎ দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তাঁর প্রচেষ্টার ফলেই বর্তমান কাঠামোটি নির্মিত হয়, যা তাঁর অবিচল বিশ্বাস এবং হিন্দু ঐতিহ্য সংরক্ষণের প্রতি প্রতিশ্রুতির এক উজ্জ্বল নিদর্শন।
অহল্যাবাই হোলকারের অবদান কাশী বিশ্বনাথ মন্দিরে ভক্তদের কাছে অত্যন্ত শ্রদ্ধেয়, যাঁরা তাঁকে একজন দূরদর্শী নেত্রী এবং ভগবান শিবের একনিষ্ঠ ভক্ত হিসেবে স্মরণ করেন। তাঁর পৃষ্ঠপোষকতায় মন্দিরের পুনর্নির্মাণ এর ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় ছিল, যা আধ্যাত্মিক তাৎপর্য এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের কেন্দ্র হিসেবে এর ধারাবাহিক গৌরব নিশ্চিত করেছিল।
উৎস: https://shrikashivishwanath.org/
কাশী বিশ্বনাথ করিডোরের উদ্বোধন
December 13, 2021
২০২১ সালের ১৩ ডিসেম্বর কাশী বিশ্বনাথ করিডোরের উদ্বোধন মন্দিরের ইতিহাসে এক যুগান্তকারী মুহূর্তের সূচনা করে, যা এর যাতায়াত ব্যবস্থা এবং আধ্যাত্মিক পরিবেশকে আরও উন্নত করেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই করিডোরটি উদ্বোধন করেন, যা মন্দিরকে গঙ্গা নদীর সাথে যুক্ত করে তীর্থযাত্রীদের জন্য এক নিরবচ্ছিন্ন ও গভীর আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতা তৈরি করে। করিডোরটি নির্মাণের সময় আশেপাশের এলাকার পুনরুজ্জীবন, ভক্তদের জন্য নতুন সুযোগ-সুবিধা তৈরি এবং ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ করা হয়েছিল।
কাশী বিশ্বনাথ করিডোর ভারতের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও প্রচারের প্রতি এক নতুন প্রতিশ্রুতির প্রতীক, যা প্রতি বছর মন্দির দর্শন করতে আসা লক্ষ লক্ষ ভক্তদের জন্য আরও সুবিধাজনক এবং সমৃদ্ধ অভিজ্ঞতা প্রদান করে। এই প্রকল্পটি কেবল মন্দিরের ভৌত অবকাঠামোই উন্নত করেনি, বরং বিশ্বাস ও ভক্তির আলোকবর্তিকা হিসেবে এর আধ্যাত্মিক গুরুত্বকেও আরও সুদৃঢ় করেছে।
উৎস: https://en.wikipedia.org/wiki/Kashi_Vishwanath_Temple
সময়রেখা
প্রথম মন্দির কাঠামো
মন্দিরের প্রথম নথিভুক্ত কাঠামোটি রাজা হরিশচন্দ্র নির্মাণ করেছিলেন বলে বিশ্বাস করা হয়।
মাইলস্টোনকুতুব-উদ্দিন আইবক কর্তৃক ধ্বংস
মুহাম্মদ ঘুরির সেনাপতি কুতুব-উদ্দিন আইবক মন্দিরটি ধ্বংস করেন এবং সেই স্থানে একটি মসজিদ নির্মাণ করা হয়।
সংস্কারগুজরাটি বণিক কর্তৃক পুনর্নির্মাণ
দিল্লির সুলতান ইলতুৎমিশের রাজত্বকালে এক গুজরাটি বণিক মন্দিরটি পুনর্নির্মাণ করেন।
মাইলস্টোনবারংবার ধ্বংসলীলা
হুসেন শাহ শর্কী (১৪৪৭–১৪৫৮) বা সিকান্দার লোদির (১৪৮৯–১৫১৭) শাসনামলে মন্দিরটি বারবার ধ্বংসের সম্মুখীন হয়।
সংস্কাররাজা মানসিংহ কর্তৃক পুনর্নির্মাণ
আকবরের রাজত্বকালে রাজা মানসিংহ মন্দিরটি পুনর্নির্মাণ শুরু করেন এবং রাজা টোডরমল এই পুনর্নির্মাণ কাজকে আরও এগিয়ে নিয়ে যান।
মাইলস্টোনবীর সিং দেও কর্তৃক নির্মাণ
জাহাঙ্গীরের শাসনামলে বীর সিং দেও পূর্ববর্তী মন্দিরের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করেন।
মাইলস্টোনআওরঙ্গজেব কর্তৃক ধ্বংস
মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেব মন্দিরটি ধ্বংস করেন এবং এর স্থানে জ্ঞানবাপী মসজিদ নির্মাণ করেন।
সংস্কারমহারানি অহল্যাবাই হোলকার কর্তৃক নির্মাণ
বর্তমান কাঠামোটি ইন্দোরের মারাঠা শাসক মহারানি অহল্যাবাই হোলকার নির্মাণ করেছিলেন এবং ১৭৭৭ সালের ২৫ আগস্ট এটি উৎসর্গ করা হয়।
মাইলস্টোননওবতখানা নির্মাণ
কালেক্টর মোহাম্মদ ইব্রাহিম মন্দিরের সামনে একটি নওবতখানা (সানাই ঘর) নির্মাণ করেছিলেন।
ঘটনাবাইজা বাই কর্তৃক স্তম্ভশ্রেণী নির্মাণ
মারাঠা শাসক দৌলত রাও সিন্ধিয়ার বিধবা পত্নী বাইজা বাই জ্ঞানবাপী চত্বরে একটি নিচু ছাদের স্তম্ভশ্রেণী নির্মাণ করেছিলেন।
ঘটনামহারাজা রণজিৎ সিং কর্তৃক স্বর্ণ দান
পাঞ্জাবের মহারাজা রণজিৎ সিং মন্দিরের গম্বুজগুলো সোনার পাত দিয়ে মুড়ে দেওয়ার জন্য সোনা দান করেছিলেন।
ঘটনামালব্য কর্তৃক প্রতিরূপ তৈরির পরিকল্পনা
পণ্ডিত মদন মোহন মালব্য বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শ্রী কাশী বিশ্বনাথ মন্দিরের একটি প্রতিরূপ তৈরির পরিকল্পনা করেছিলেন।
ঘটনানতুন বিশ্বনাথ মন্দির নির্মাণ
নতুন বিশ্বনাথ মন্দিরের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়।
মাইলস্টোনকুম্ভাভিষেকম অনুষ্ঠান
নাট্টুকোট্টাই নাগারাথারদের পরিচালনায় মন্দিরের কুম্ভাভিষেকম (পবিত্রকরণ অনুষ্ঠান) অনুষ্ঠিত হয়।
উৎসর্গকাশি বিশ্বনাথ করিডোর প্রকল্প চালু
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী কর্তৃক কাশী বিশ্বনাথ করিডোর প্রকল্প চালু করা হয়।
ঘটনাকাশি বিশ্বনাথ ধাম করিডোর উদ্বোধন
গঙ্গা নদীর সাথে মন্দিরকে সংযুক্তকারী কাশী বিশ্বনাথ ধাম করিডোর প্রধানমন্ত্রী মোদী উদ্বোধন করেন।
উৎসর্গগর্ভগৃহ স্বর্ণমণ্ডিতকরণ
এক অজ্ঞাতপরিচয় দাতার ৬০ কেজি সোনা দানের পর মন্দিরের গর্ভগৃহটি স্বর্ণমণ্ডিত করা হয়।
ঘটনাতীর্থযাত্রীর সংখ্যা
মন্দিরে প্রতিদিন গড়ে ৪৫,০০০ তীর্থযাত্রী আসতেন।
ঘটনাসম্পদ মূল্যায়ন
মন্দিরের মোট সম্পদের পরিমাণ ₹৬ কোটিরও বেশি বলে অনুমান করা হয়েছিল।
ঘটনাঅনুরূপ মন্দিরসমূহ
উৎস ও গবেষণা
Temples.org-এর প্রতিটি তথ্য যাচাইকৃত দ্বারা সমর্থিত <strong>উৎস ও গবেষণা</strong>। তথ্যের প্রতিটি অংশ উৎস স্তর এবং আত্মবিশ্বাসের স্তর দ্বারা রেট করা হয়।
সমস্ত উৎস দেখুন (4)
| ক্ষেত্র | উৎস | স্তর | পুনরুদ্ধার করা হয়েছে |
|---|---|---|---|
| About & Historical Background | Shri Kashi Vishwanath Temple Trust (নতুন ট্যাবে খোলে) | A | 2024-02-29 |
| About & Historical Background | Varanasi District Administration (নতুন ট্যাবে খোলে) | A | 2024-02-29 |
| Historical Timeline | Wikipedia (নতুন ট্যাবে খোলে) | B | 2024-02-29 |
| Architectural Description | Archidust.com (নতুন ট্যাবে খোলে) | B | 2024-02-29 |